শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: কার্য উপদেষ্টাসহ ৫ সংসদীয় কমিটি গঠন, পর্যালোচনায় আসবে ১৩৩ অধ্যাদেশ ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ মিটারে বারবার আগুন: নতুন সংযোগে পল্লী বিদ্যুতের ‘গড়িমসি’, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও নৈতিকতা: পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়: ইসরায়েলের ‘অসহায়’ স্বীকারোক্তি হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে ভয়াবহ হামলা: একটিতে আগুন, নাবিকদের উদ্ধার সালথায় আওয়ামী আমলের সারের ডিলার বাতিলের দাবিতে উত্তাল মানববন্ধন ঝুঁকিপূর্ণ মিটারে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক: ধামরাইয়ে নতুন সংযোগ দিতে পল্লী বিদ্যুতের গড়িমসি ও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ জমে উঠেছে ইসলামপুর ঈদের বাজার, খুশি ব্যবসায়ীরা ॥

ফের করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হারে শীর্ষে খুলনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হারে ফের শীর্ষে রয়েছে খুলনা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে সর্বাধিক ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের হার ছিল সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

এর আগে ২২ জুন ও ১৭ জুন খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের হার ছিল। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ফের করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হারে শীর্ষে উঠে এসেছে খুলনা বিভাগ।

বিভাগে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। শয্যা সংকটের কারণে খুলনা করোনা হাসপাতালে ফ্লোরে রেখে সেবা দিতে হচ্ছে রোগীদের।

এদিকে সম্প্রতি খুলনায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’দফায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা কাজে আসেনি। সর্বশেষ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন। বৃহস্পতিবার ছিল লকডাউনের তৃতীয় দিন। এ দিন সকালে লোকজন কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার ও সড়কে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে।

লকডাউনে সড়কে গত দুদিনের তুলনায় প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও রিকশার চলাচল তুলনামূলক বেশি ছিল। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কিছু সংখ্যক ইজিবাইক ও থ্রি হুইলার চলাচল করতে দেখা যায়। তবে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন ও বাসসহ গণপরিবহন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে। এরপরই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। মারা যাওয়া ৮১ জনের মধ্যে ২৩ জনই খুলনা বিভাগের। এছাড়া রাজশাহীতে ২০ জন, ঢাকায় ১৩ জন, রংপুরে ৭ জন, চট্টগ্রামে ৭, সিলেটে ৫, বরিশালে ৩ ও ময়মনসিংহে ৩ জন মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৩৩৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ২৮টি। নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৮ জনের। মোট নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনা রোগী শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি খুলনা বিভাগে। এরপরই রংপুর বিভাগ। খুলনা বিভাগে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ১১ শতাংশ, রংপুরে করোনা শনাক্তের হার ৩৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ দশমিক ০২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও ঢাকা বিভাগে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুলনায় মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে। লকডাউনে যেহেতু মানুষ ঘরের বাইরে বের কম হচ্ছে, জনসমাগম কম হচ্ছে। সেহেতু সংক্রমণ কমে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি আমরা।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা বলেন, মাস্ক পরিধানের বিকল্প নেই। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা সংক্রমণ কমানো সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com